পদ্মায় ওয়াই সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত

পদ্মায় ওয়াই সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত
Table of Content

পদ্মা ব্যারেজসহ দুটি মেগা সেতুর কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে সময়ের কণ্ঠস্বর জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে এবং একই সঙ্গে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতুও নির্মাণ করা হবে।

সেতুমন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি আগেই একনেকে পাস হয়েছিল। পরবর্তীতে বিস্তারিত নকশা তৈরির সময় কাছাকাছি দূরত্বে একটি ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের বিষয়টি আসে। এই দুই প্রকল্পের কাজের মধ্যে যাতে কোনো বিরোধ তৈরি না হয় এবং কাজের সামঞ্জস্য থাকে, সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পদ্মা ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সেতুর সমীক্ষা ও রুট পরিকল্পনা

বর্তমানে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সান নিউজের খবর অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, চূড়ান্ত নকশা, প্রকল্প ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি ওয়াই-আকৃতিতে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেতুমন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ সরকারের একটি নির্বাচনি অঙ্গীকার।

সমন্বয় ও অর্থায়ন নিশ্চিতের তাগিদ

বৈঠকে প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষিজমি ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়গুলো পদ্মা ব্যারেজ পরিকল্পনায় রয়েছে।

বৈঠকে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এছাড়া অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বৈঠকে অংশ নেন।