নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সিনেটের প্রথম ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবের কাওয়াস। তিনি মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সিনেটের ১২ নম্বর আসনে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হলেন তিনি। সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ পেয়েছেন।
জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কাওয়াস লিখেছেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’ সংবাদ জানিয়েছে, কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। গত জুনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের পর তিনি সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অবস্থান
কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও যুদ্ধে অর্থায়নের বিরোধিতার পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বন্ধ করতে প্রস্তাবিত ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
আন্দোলন ও পারিবারিক পটভূমি
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে কাওয়াস ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিকদের অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। কাওয়াসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। তার বাবা-মা ১৯৯০-এর দশকে ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর নজরদারি ও বহিষ্কারের আশঙ্কার মধ্যে পড়েন তিনি। কাওয়াস যখন হাই স্কুলে পড়তেন, তখন তার বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৩ সালে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্বে অর্থায়ন বন্ধে একদল অধিকারকর্মীর সঙ্গে কাওয়াস প্রচার চালান। নিউইয়র্কের দাতব্য সংস্থাগুলো যাতে ইসরায়েলি বসতি-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্টের উত্থাপিত বিলটির পক্ষে তারা কাজ করেছিলেন। তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতায় বিলটি পাস হয়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে চলতি বছর কাওয়াস গ্রেপ্তার হন এবং পরে ছাড়া পান। নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাড়ে সাত লাখ ডলারের চুক্তিরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি। বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তির মুখে গত সপ্তাহে চুক্তিটি বাতিল করে পুলিশ বিভাগ।

