বেইজিংয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক এবং ওমানের সুলতানের ঐতিহাসিক সফরে ১৪টি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে উপসাগরীয় কূটনীতিতে সক্রিয় হয়েছে চীন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। এর অংশ হিসেবে সোমবার বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই দিনে রাষ্ট্রীয় সফরে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বৈঠকে ওয়াং ই জানান, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পর এখন সংলাপই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র সম্ভাব্য পথ, জানিয়েছে সময়ের কণ্ঠস্বর। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সংঘাত শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন তিনি। তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা চীন সংঘাত নিরসনে আলোচনায় জোর দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন।
এদিকে ১৯৭৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান চীন সফর করলেন বলে সান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়। ওমানের সুলতানকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র করা উচিত নয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বেইজিংয়ের কাছে তেলের সরবরাহ সচল রাখা জরুরি। সুলতানের এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ঐতিহাসিক শুরুর বিন্দু হিসেবে অভিহিত করেন শি।
হরমুজ প্রণালির অপর পাশে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই জলপথে নৌ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হতো। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটার মতো ঘটনার পর জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সংঘাতের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ওমানের অনেক বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকায় দেশটির গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাষ্ট্রীয় এই সফরে চীন ও ওমানের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ মোট ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে একটি মুদ্রা বিনিময় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনায় ফেরার তাগিদ দিয়েছে তারা।

