ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ
Table of Content

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ডিবিসির ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে হেফাজতে নিয়েছে ডিবি। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের অপরাধ বিভাগের প্রধান রাজীব ঘোষকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসির কার্যালয় থেকে তাঁদের মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে সময়ের কণ্ঠস্বর জানিয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পদক্ষেপ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই খবরের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে হেফাজতে নেয়। তিনি জানান, তাঁদের নিরাপদে হেফাজতে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বা গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

তবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিকেলে অফিসে যাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা এড়াতে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এদিকে চ্যানেলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কার্যালয়ের ভেতরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তাঁদের চোখে পড়েনি এবং ডিবির গাড়ি নিচে এসে তাঁদের ডেকে নিয়ে যায়।

ডিবিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ

ঘটনার পর ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ডিবি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের কোনো মামলার কারণে নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে ডিবিসি নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় প্রচারিত খবরে দাবি করা হয়, ইকবাল সোবহান চৌধুরী চেয়ারম্যান পদ দাবি করে চ্যানেলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যে সম্প্রতি কিছু গোপন বৈঠক হয়েছিল এবং তারই অংশ হিসেবে চ্যানেলটি দখলের চেষ্টা হয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার পটভূমি

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন বলে সংবাদ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২০০৮ সালে ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন এবং পরে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী টাস্কফোর্স তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এছাড়া চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।