এইচএসসি ২০২৬: সিলেটে ১৩ বছরের সর্বনিম্ন পাস, আলফাডাঙ্গায় ধস

এইচএসসি ২০২৬: সিলেটে ১৩ বছরের সর্বনিম্ন পাস, আলফাডাঙ্গায় ধস
Table of Content

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমেছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশে এবং আলফাডাঙ্গার চার কলেজে ফেল করেছেন দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী।

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে গেছে গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে এবং একই সঙ্গে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বড় ধরনের ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। শনিবার এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

সংবাদ জানিয়েছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশে। সেখানে চারটি কলেজের দুই-তৃতীয়াংশ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।

সিলেট বোর্ডের ফলাফল

সিলেট বোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটি সূচকেই পরীক্ষার্থীরা আগের তুলনায় পিছিয়েছে। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ডের আওতাধীন চার জেলার মধ্যে ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সিলেট জেলা। সর্বনিম্ন ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ পাস করেছে মৌলভীবাজারে। তবে পাসের হারে পিছিয়ে থাকলেও ১৫১টি জিপিএ-৫ পেয়ে জেলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মৌলভীবাজার। এ জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।

পুরো সিলেট বোর্ডেও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সামান্য এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা। ছাত্রদের মধ্যে ৬১৩ জন এবং ছাত্রীদের মধ্যে ৫৯১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং মানবিকে পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বোর্ডের ৩৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে আর ৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বোর্ডের ২২ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। এছাড়া শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ৭৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ পাস করেছে।

আলফাডাঙ্গার ফলাফল ও পদক্ষেপ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চারটি কলেজ থেকে মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২৪৪ জন। ফেল করেছেন ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী। চারটি কলেজ মিলিয়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন শিক্ষার্থী। উপজেলার সার্বিক পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ কম।

উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজে ৪৯০ জন অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার ৩২ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন। হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১৬ জন, পাসের হার ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং কেউ জিপিএ-৫ পাননি। আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৩৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।

তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১ জন অংশ নিয়ে ২২ জন পাস করেছেন, যার হার ৭০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ কলেজ থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ফলাফলের এই চিত্রে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ জানিয়েছেন। স্থানীয় ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষার্থীদের অবাধ স্মার্টফোন আসক্তি, অভিভাবকদের তদারকির অভাব এবং শিক্ষকদের দায়সারা মনোভাবের কারণে এই ফলাফল হয়েছে। আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হাবিব জানিয়েছেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে।