হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথ ব্যবহারের সময় মাইনে দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরান। এদিকে সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সাগরে পেতে রাখা মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসির বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, জাহাজ দুটি প্রণালির জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করেনি। তবে বিস্ফোরণের শিকার হওয়া জাহাজ দুটির নাম, সেগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী কিংবা ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনীর এই দাবির সত্যতাও তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্রে যাচাই করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। দেশটি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কেবল তাদের নির্ধারিত পথ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে এই পরিস্থিতির মধ্যেই চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলজাজিরার বরাতে সময়ের কণ্ঠস্বর জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন যে একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, তেহরানকে হয় চুক্তিতে আসতে হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।

প্রণালিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণ ও জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ওমানের মুসান্দাম উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে যায়। ওমানের নৌবাহিনী পরবর্তীতে সেই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করে।

এর আগের দিনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইন বিস্ফোরণে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার তথ্য জানিয়েছিল ইরানের সামরিক বাহিনী। জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল এবং ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল।