মুক্তির তারিখ – ৮ জুলাই, ২০০৫

হাজার বছর ধরে জেগে থাকে পৃথিবীর জীবন । সে জীবনে অসংখ্য মানুষ আসে ধরণীর আলো -বাতাসে,আবার অসংখ্য মানুষ চলে যায় নিয়ম করে। জেগে থাকা রাত অনেকগুলো স্বপ্নের কথা বলে ,বলে হারিয়ে যাওয়া অনেকগুলো রাতের গল্প । সেইসব রাত-দিনের গল্প নিয়েই মানুষ এগিয়ে যায় , এগিয়ে যায় । ছুটে চলা এ মাত্রিক জীবনে ভিন্ন নদীর প্রবাহ আসে । কখনও স্রোত কেড়ে নেয় অসংখ্য হাসি আবার কখনও হাসির মিশেলে যেন ঢেউ নামে জীবনের । নদীতে ঢেউ উঠে ,দিঘিতে জলের আওয়াজ ; সব এখানে মন্ত্রমুগ্ধের মত বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকে মানুষের বুকের ভেতর । সেই বুকে কোন খাদ নেই , আছে নিখাদ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা জেগে থাকে যুগের পর যুগ ,হাজার বছর ধরে ।
নির্মান ইতিহাস
যেই উপন্যাস প্রচলিত বাংলাদেশের ১৯৬০ সালের জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে। বিখ্যাত অভিনেত্রী সুচন্দার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এই উপন্যাস অবলম্বনে এবং একই শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করবেন।
এ ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশ সরকার-এর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ সমর্থন পেয়েছিলেন। এবং ছবিটি রসাস্বাদন প্রকল্পে কর্তৃপক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার একটি অনুদান পেয়েছিলেন। ‘যদিও ছবি নির্মান ব্যয়ের তুলনায় অনুদানের পরিমান ছিল অপর্যাপ্ত’ সুচন্দা মনে করেন এটা অসম্ভব যে ছোট বাজেটের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য চলচ্চিত্র নির্মান করা, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে ‘ভালো কিছু করতে হলেত একটু বেগ পেতেই হয়’। সুচন্দা ছবির শুটিং স্পট বেছে নেন গাজীপুর মধ্যে হোতাপারা স্পট এ করা হয়েছে।
হাজার বছর ধরে সুচন্দার পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র সবুজ কোট কালো চশমা, তিনি একটি দীর্ঘ বিরতি পর এই ছবিটি নির্মাণ শুরু করেন। তিনি এই চলচ্চিত্রের জন্য যথাক্রমে প্রায় ছয় বছর অপেক্ষা করেছেন। যখন হোতাপারা থেকে তিনি গাজীপুর গেলেন তখন শুটিং স্পট এবং প্রধান স্থান হিসেবে নির্বাচিত করলেন। মূল উপন্যাসের সাথে দৃশ্যের মিল রাখতে জায়গায় ঋতু পরিবর্তন মানা হয়। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তন স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল।
হাজার বছর ধরে ছবিতে টুনি চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে সুচন্দা ১৪ বছর বয়সী মেয়ে শশীকে নির্বাচিত করেন। সুচন্দার এই ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে অভিনেতা রিয়াজ ছিলেন অন্য রকম, তিনি এই ছবিটির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক হিসাবে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র ১০১ টাকা।


















