মেঘেদের বাড়ি আর মেঘের রাজ্য মেঘালয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যের “চেরাপুন্জি”. সেখানেই মূলতও পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। মেঘ,পাহাড় আর ঝর্নার মিলনমেলা এই চেরাপুন্জি। নানান আকৃতিতে গম্ভির হয়ে দাঁড়ানো এই পাহাড়ে পাহাড়ে কত কত নামে ঝর্না রয়েছে। সেভেন সিস্টারস ফলস, এলিফ্যান্ট ফলস, নাহকালিকাই ফলস কতো যে নামের আধিপত্য এখানে। তবে এর মাঝে একটি ঝরনার নাম আর ঘতনায় রয়েছে আবেগ, ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের এক মর্মান্তিক ঘটনা। ১১১৫ ফুট উচুতে নাহকালিকাই এর অবস্থান। আর বলা হয়ে থাকে এটি ভারতের সবচেয়ে উঁচু ঝর্না. আর সর্ব উচ্চতার এই ঝর্নার নামকরণের সাথে মিশে আছ এক সন্তান হারানোর বেদনা, হাহাকার ও ইতিহাস।
অনেক অনেক বছর আগে মেঘালয়ের এক গ্রামে খাসিয়া জাতির এক মহিলা বাস করতেন। নাম ছিল “লিকাই”. খাসিয়াদের ভাষায় মেয়ে বুঝাতে “কা” বলা হয়ে থাকে। লিকাই এর বিয়ের পর তার স্বামী একটি সন্তান রেখে মারা যান। মেয়েটি খুবই দরিদ্র ছিলেন। স্বামী মারা যাবার পর যেনও পুরো রাজ্যের ভার তার উপর পরল। বেঁচে থাকার অমানবিক যুদ্ধে নিজের এবং সন্তানের জন্য সে ফেরি করে রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।পরবর্তীতে এক সময় তিনি দিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হয়। তাঁর নতুন স্বামী কনভাবেই তার ছোট্ট আদরের বাচ্চাটিকে পছন্দ করতনা। এবং লোকটি চাইত যেন লিকাই তার বাচ্চার প্রতি কোনও ভাবেই মনযোগ না দেয়। এক কোথায় লোকটা ছিলও চরম হিংসুটে ও নির্মম প্রকৃতির।
প্রতিদিনকার মতো একদিন লিকাই তার কাজ থেকে ফিরে এসে বাচ্চার খোজ নেয়। কিন্তু কোথাও আর তার আদরের ছোট্ট সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যায়না। অবশেষে লিকাই বুঝতে পারে বাচ্চাটিকে মেরে, কেটে রান্না করে ফেলেছে লিকাইয়ের নিষ্ঠুর স্বামী । সবচেয়ে দুঃখজনক হয় যখন লিকাই দেখতে পায়, কাটাকাটি করার সেই স্থানে পরে আছে তার আদরের ছোট্ট সোনামণির টুকরো টুকরো দেহের অংশ। এ অবস্থায় পাগলপ্রায় মার আবেগ, ভালবাসা, দু:খ ,উন্মাদনা কোন কিছুই স্বাভাবিক ছিলনা। এই উন্মাদ অবস্থায় ঝর্নার চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে লিকাই। আর এই হতভাগ্য লিকাই যেই ঝর্নায় ঝাঁপ দিয়েছিলন তার নামের স্মরণেই এই ঝর্নার নামকরণ হয়েছে ,”নাহকালিকাই”.



















