একটা রিয়েল জিনিসকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা আর রিয়েল থাকে না। ফ্লাট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রের ভেতরকার বাস্তবতা হচ্ছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, সেটা তৈরি করতে হয়, কেবল ধারণ করে সেটা তৈরি করা যায় না। এই ভারচুয়াল বাস্তবতা তৈরি করতে হয় মূলত সম্পাদনার মাধ্যমে। কখনও কখনও স্পেশাল এফেক্টের মাধ্যমে, শব্দ বা আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। সম্পাদনার কথা মাথায় রেখে, সে অনুযায়ী দৃশ্য ধারণ করার মাধ্যমেই তার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করতে হয়। সেই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি তৈরি করার জন্য কখনও কখনও (এমনকি প্রায়শই) মিথ্যা বা সাজানো দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তবেই সেই বাস্তবতা ফুটে ওঠে। আর এ ভাবেই বাস্তব তথ্য সম্বলিত চলমান চিত্রের নাম তথ্য চিত্র বা ডকুমেন্টারি ।
তথ্যচিত্র রীতি মূলত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিবর্তিত হয়েছে এবং তাই এটি সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তি দেখা হতে পারে যে “তথ্যচিত্র মূলত কি সেটা নিয়ে অনেকের অনেক মতামত রয়েছে।
ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্র সাধারণত বাস্তব অভিজ্ঞতার ধারা প্রকৃত চিত্র এবং হস্তনির্মিত চিত্রায়নের মাধ্যমে দর্শকদের ব্যক্তি,স্থান,এবং ঘটনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনার করে নতুন বিশ্ব ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা সম্পরকে ধারনা দেয় ।
চলচ্চিত্র নির্মাতা কঠোর পরিশ্রম করে তথ্যসংক্রান্ত উপাদানের একটি সামগ্রিক আখ্যান তৈরি করেন যেটি দর্শক দের বেশী আকর্ষণ করে এবং দর্শক এই ব্যাখ্যা টিকে সত্যি বলে বিশ্বাস করে।
ডকুমেন্টারি, মজার, গ্লানিকর ,বিরক্ত,বিদ্রূপাত্মক,অযৌক্তিক,অনুপ্রেরণীয়,মজাদার,এবং জঘন্য বা যেকোন সমন্বয় হতে পারে।
ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্র এক ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের কৌশল যেখানে ভিডিও ও ফিল্ম দৃশ্য , ফটোগ্রাফ এবং বাস্তব মানুষ এবং বাস্তব ঘটনার শব্দ ব্যবহার করে সম্পাদনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গল্প,দৃষ্টিকোণ,বার্তা বা অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে।
তথ্যঃ যখন চিত্র
তথ্যচিত্র একটি বাস্তবিক চলমান চিত্র যা মূলত ঐতিহাসিক রেকর্ড বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়।
“তথ্যচিত্রকে বর্ণনা করা হয় ” একটি ” অনুশীলন চলচ্চিত্র , একটি সিনেমার ঐতিহ্য হিসেবে যা প্রতিনিয়ত নতুন ভাবে তৈরি হয় যা কোন সীমানা মানে না ।
আমেরিকান ফিল্ম সমালোচক পারি লরেন্স তথ্যচিত্র সংজ্ঞায়িত করেন ফিল্ম “নাটকীয় যা বাস্তবিক ফিল্ম হিসাবে ।
তথ্যচিত্র হল তথ্যসংক্রান্ত বিষয় ( অর্থাৎ কেউ বা কিছু ) একটি গল্প. বিভিন্ন লক্ষে এই
তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ধারনা রেকর্ড করার লক্ষ্য , দর্শকদের অবহিত ; মতামত বোঝাতে এবং জনস্বার্থ তৈরি করতে ।
ডকুমেন্টারী টেকনিক:
সাক্ষাৎকারঃ
সাক্ষাৎকার হচ্ছে একটি সাধারন তথ্য চিত্র কৌশল।
প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকার কৌশলঃ
আমরা দেখি সাবজেক্ট ক্যামেরায় তাকিয়ে কথা বলে এবং আমরা আরও দেখি রিপোর্টার শুনে এবং সাবজেক্টকে প্রশ্ন করে আকই শট এ আর সেটা হয় মুখমুখি সমান্তরাল।
পরোক্ষ সাক্ষাৎকার কৌশলঃ
এখানে সাবজেক্ট ক্যামেরায় তাকিয়ে কথা বলে কিন্তু আমরা রিপোর্টার এর কথা বা প্রশ্ন শুনতে পাই না এবং তার কথা বলার ধরন এমন হবে যে সাবজেক্ট সরাসরি দর্শকদের সাথেই কথা বলছে।
গ্রাফিক্সঃ
টাইটেলের ব্যবহার অথবা পর্দায় ভাসমান লেখা চিত্র । Ken Burn’s এর তথ্য চিত্র মতে ডিভিশন সিনেমা।
মিউজিকঃ
ছবির সাথে শব্দের সংগতি থাকা, সাউন্ড ট্র্যাক, থিম, মনটেজ- মিউজিক, সব উপাদান সুবিনাস্তভাবে প্রয়োগ করা।
ভয়েস ওভারঃ
ভয়েস ওভারে মূলত একজন বাক্তি তথ্য চিত্রের কিছু সমস্যা / সমস্যা / সংঘাত সম্পর্কে বলে যাকে আমরা পর্দায় দেখতে নাও পেতে পারি । তিনি ধারা বর্ণনার মাধ্যমে দর্শকদের তথ্য চিত্র সম্পর্কে ধারনা দেয়। দর্শক তার ধারা বর্ণনা শুনে তার অস্তিত্ব অনুধাবন করতে পারে এবং চিত্র সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানতে সক্ষম হয়।
সংগ্রহশালার বা স্টক ফুটেজঃ
একটি তথ্যচিত্র মধ্যে একটি ফিল্ম লাইব্রেরি বা আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত উপাদান যোগ করা হয় ঐতিহাসিক ঘটনা দেখানোর জন্য । এটি মূলত করা হয় শুটিং এর সময় ও খরচ কমানোর জন্য।
পুনর্নির্মানঃ
প্রায়ই ডকুমেন্টারিতে এই টেকনিক ব্যবহৃত হয়। তারা কোন ঘটনার তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি কৃত্রিম ঘটনা দৃশায়িত করে যা ঐ ঘটনার বাস্তব রুপ বর্ণনা করে।
ভয়েসের কোয়ালিটি
কেবলমাত্র ভয়েস কিংবা কণ্ঠস্বর দিয়ে যুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে একটি ডকুমেন্টারি। শুধুমাত্র বক্তব্যের প্রতি জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় একটি ধারণা।
উদাহরণঃ অ্যাবরশন স্টোরি, স্পিক বডি
ভয়েস বা কণ্ঠস্বর ভাব প্রকাশের একটি স্টাইল। ফিকশন অথবা নন ফিকশন ফিল্মের মতো মূল বিষয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করে এটি। তবে অন্যান্য ফিল্ম থেকে এ ধরনের ডকুমেন্টারির প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়।
উদাহরণঃ সনভিল অন স্টাইক
কণ্ঠস্বর নির্ভর ডকুমেন্টারিতে একটি শক্তিশালী ভয়েস বা কণ্ঠ নিজের ধারনার স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি প্রদান করে। একে ‘ভয়েস অব গড’ বলা হয়। অদৃশ্য থেকে ভেসে আসা এই কণ্ঠস্বরই মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে তার স্বকীয়তা সম্পর্কে। ফিল্মমেকারের চিন্তা চেতনাকে মানুষের মধ্যে গেঁথে দেয় এই কণ্ঠস্বর।
ভয়েস অব ডকুমেন্টারি ফিল্মমেকারের নিজস্ব মতামত তুলে ধরে। সাউন্ড, ইমেজের সঠিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেশকিছু ডিসিশনের উপরও নির্ভর করে একটি কণ্ঠস্বর নির্ভর ডকুমেন্টারির সার্থকতা-
১। কখন কীভাবে দৃশ্যধারণ করতে হবে, দৃশ্যটি কোথায় শুরু এবং শেষ করতে হবে। আলোর ব্যবস্থা কেমন থাকবে।
২। সাউন্ড কীভাবে প্রদান করা হবে ডকুমেন্টারির সেটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভয়েস ওভার যাবে নাকি ডাবিং করা হবে ডায়ালগ, সাউন্ড ইফেক্ট থাকবে কীনা, থাকলেও কীভাবে সে সিদ্ধান্তও নিবে পরিচালক।
৩। সঠিকভাবে সময় ঠিক করে দৃশ্যধারণ করা। প্রয়োজনে কোন দৃশ্যের জন্য নতুন করে শুটিং এর ব্যবস্থা করা।
৪। কোথায় পুরোনো ছবি ব্যবহার করা হবে কিংবা কোথাও স্থিরচিত্র যাবে কীনা। যে ছবি যাবে সেগুলো পরিচালক নিজেই ব্যবস্থা করবেন।
৫। ডকুমেন্টারিটি কোন ধরনের হবে। পোয়েটিক, এক্সপোজেটোরি অথবা রিফপ্লেক্সিভ নাকি অন্য কোনও ধরনের হবে সেই সিদ্ধান্ত নিবেন পরিচালক।
• পরিচালকের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন এবং সেটা ডকুমেন্টারিতে কীভাবে ফুটে উঠবে সেটা নির্ভর করে পরিচালকের দক্ষতার উপর।
• অদেখা কণ্ঠস্বরের বক্তব্য তুলে ধরার দক্ষতার উপর নির্ভর করে সেটা মানুষ কতোটুকু বিশ্বাস করবে।
• কণ্ঠস্বর নির্ভর ডকুমেন্টারি বক্তব্যের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি প্রদান করে।
• কণ্ঠস্বর নির্ভর ডকুমেন্টারি বক্তব্যের সত্যতা প্রকাশ করে। শুধুমাত্র কণ্ঠের মাধ্যমে মূলভাব এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন পরিচালক সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না।
• রবার্ট ফ্লাহার্টি অথবা জন সিলভারের মতো পরিচালকরা এ ধরনের ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সামাজিক বিভিন্ন বিষয়। তারা দেখিয়েছেন কতোটা সৃজনশীল উপায়ে সমাজের এসব সত্য প্রকাশ করা যায়।
ভয়েস ওভারে মূলত দুই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয় ।
১। আমি তাদের সম্পর্কে তোমাদের বলছি
২। আমরা আমাদের সম্পর্কে তোমাদের বলছি
ডকুমেন্টারির কিছু ধাপ –
উদ্ভাবন (Invention)
উদ্ভাবন মূলতও কোনও মতামত, আবিষ্কার কিংবা অবস্থানের সাক্ষ্য প্রমান নির্দেশ করে।
এখানে যে কথাটি রয়েছে, ‘সাক্ষ্য প্রমান’ তা ক্লাসিক্যাল এবং মানসম্পন্নও দিক নির্দেশনার কথাই উল্লেখ করছে। কিন্তু একটা ব্যাপার আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, ডকুমেন্টারি মূলতও বানানো হয়ে থাকে অলঙ্কৃতভাবে মানব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং জীবন সাপেক্ষ কাহিনী নির্ভরে। তাই অনেক ক্ষেত্রে এতে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমান এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি অনুপস্থিত থাকতে পারে, এবং এটাই স্বাভাবিক।
এই সব উপস্থাপনের ভিত্তিতে এরিস্টটল ২টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
১। বিনা নান্দনিকতায় বা বিনা ক্রিত্তিমতায় যথাযথ উপাত্ত
(Inartistic or non-artificial proofs)
২। নান্দনিক বা অলঙ্কৃত ভাবে বানানো উপাত্ত
(Artistic or artificial proofs)
এর মানে হলও একদিকে যেমন যথাযথ ঘটনাকে যা আছে সেই ভাবেই উপস্থাপন করা যায়, অন্যদিকে একটি প্রকৃত ঘটনাকেও অলঙ্কৃত করে তাকে নান্দনিক গুনাবলি সংযোগ করেও ডকুমেন্টারিতে প্রদরশন করা যায়।
বিনা নান্দনিকতায় বা বিনা ক্রিত্তিমতায় যথাযথ উপাত্ত
এই ক্ষেত্রে ঘটনা যা তাই উপস্থাপন করাটাই হলও মুল উদ্দেশ্য। তাই মুল ঘটনার সাথে জড়িতও থাকা যাবতীয় সাক্ষ্য প্রমান, দলিল, প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী, স্বীকারোক্তি, শারীরিক ভাবে উপস্থিতি, হাতের ছাপ, চুল, বৈজ্ঞানিক বিবৃতি এবং বিশ্লেষণ এমনকি ডিএনএ সমস্তও কিছুই প্রকাশ করতে হবে।
নান্দনিক বা অলঙ্কৃত ভাবে বানানো উপাত্ত
অত্যন্ত নান্দনিক এবং দৃষ্টিনন্দন ভাবে একটি সত্যি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অলঙ্কৃতভাবে মানব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং জীবন সাপেক্ষ কাহিনী তুলে ধরা হয়। মূলতও সমাজের কাছে উপস্থাপন এবং সচেতনতা সৃষ্টি করাই মুল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমান এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি অনুপস্থিত থাকতে পারে, এবং এটাই স্বাভাবিক। অনেকটা গল্পাকারে নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।
এরিস্টটল আবার নান্দনিক বা অলঙ্কৃত ভাবে বানানো উপাত্ত’ ‘কে ৩ভাগে ভাগ করেছেন।
১। নৈতিকতাবোধ (Ethical)
২। আবেগময় (Emotional)
৩। অভিব্যাক্তিশীল (Demonstrative)
এর বাইরেও পরিচালকেরা আবার নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী তাদের ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করেন। তা হলও –
১। বিশ্বাসযোগ্য (Credible)
২। গ্রহণযোগ্য (Convincing)
৩। ধারণযোগ্য (Compelling)
দর্শকের কাছে যখন কোনও তথ্যচিত্র বিশ্বাসযোগ্য হবে, তখনই দর্শক তা গ্রন করবেন এবং ধারণ করবেন এবং পরিশেষে তা সচেতনতার সৃষ্টি করবে। পরিচালক একে বাস্তবিকভাবে প্রদরশন কবেন নাকি রুপক চিত্রে উপস্থাপন করবেন তা একান্তই পরিচালকের নিজের ইচ্ছা।
বিন্যাস (Arrangement)
বিন্যাস হচ্চে অলংকারপূর্ণ বক্তব্যকে স্বাভাবিক ক্রম অনুসারে সাজানো। আদর্শ তথ্যচিত্র বা Documentary’র ক্রমগুলো হচ্ছে—
- দর্শকদের আকর্ষণ করে এমন একটি সুচনা।
- যা এরইমধ্যে সত্য বলে ধরে নেয়া হয়েছে, অথবা যা নিয়ে বিতর্ক আছে– সেগুলো সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া।
- কারও দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য সরাসরি যুক্তি উপস্থাপন করা।
- তথ্যচিত্রের যেসব বিষয় অপ্রত্যাশিত বিতর্ক তৈরি করতে পারে, সেগুলো যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা।
- তথ্যচিত্রের পুরো বিষয়বস্তুকে এমনভাবে একসাথে উপস্থাপন করা যাতে সেটি দর্শকদের একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ধাবিত করে।
তথ্যচিত্রের রীতি (Style)
একটি তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য কিছু রীতি অনুসরন করে, যেগুলো চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত রীতির উপাদানের মত। যেমন-
- আলোকসজ্জা বা Lighting
- সম্পাদনা বা Editing
- অভিনয় বা Acting
এগুলো তথ্যচিত্রের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। যা বিষয়বস্তুর সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্মৃতি (Memory)
কোন স্থানে দেয়া বক্তব্য অথবা কোন বিতর্কের মাঝখানে স্মৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রের যে কোন বক্তব্য স্মৃতিচারনার মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দর্শকরা সহজেই বুঝতে পারে অতীতে কি হয়েছে, আর বর্তমানে কি হচ্ছে।
উপস্থাপন (Delivery)
তথ্যচিত্রের উপস্থাপন বা Delivery দুইভাগে বিভক্ত— কন্ঠ এবং অঙ্গভঙ্গি। এগুলোর মাধ্যমে তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তু বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্র উপস্থাপনের সাথে আরও দুটি বিষয় জড়িত— বাগ্মিতা এবং শালীনতা। বাগ্মিতা হচ্ছে বিষয়বস্তু যুক্তিতর্ক ও আবেগের মাধ্যমে তুলে ধরা। অন্যদিকে, শালীনতা হচ্ছে নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শকদের সামনে নির্দিষ্ট কন্ঠ বা কৌশলের কার্যকারিতা।

















