চীনের ইউনান প্রদেশে ২০ হাজার ফুট উঁচুতে নির্মিত কাচের সেতু এখন এখন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কাচের সেতু। জুলাইয়ের শেষ দিকে সবার জন্যে খুলে দেয়া হচ্ছে চীনা স্থাপত্যশৈলীর এই অনন্য নিদর্শন।
ব্রিজটি দেখে, স্বাভাবিক ভাবে আপনার চোখ বড় বড় হয়ে যাবে এবং এই ব্রিজে পা রাখা মাত্রই আপনার গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। দুর্বল হৃদয়ের মানুষের এটাতে উঠার খেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। প্রায় ৩০০ মিটার গভীর ঝাংজিয়াজিগ্রান্ড ক্যানিয়নের উপর তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের ও উচুঁ কাচের এই ব্রিজটি।
পাহাড়ে এই কাচের ব্রিজের উপর দিয়ে হাঁটলে আপনি পায়ের তলায় স্পষ্ট দেখতে পাবেন সবুজ গাছে ঘেরা গভীর গর্ত। মুহৃর্তের মধ্যে মনে হতে পারে, পায়ের তলা থেকে পৃথিবীটাই সরে গেছে।
জানা গেছে, ৩০০ মিটার লম্বা ও ৬ মিটার চওড়া এই অবিশ্বাস্য ব্রিজটি তৈরি করার পরিকল্পনা করেন ইজরায়েলের আর্কিটেক্ট হায়িম দোতান। যাঁর ডিজাইনে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি। চীনের হুনান প্রদেশের শিনিউজহাই জিওপার্কে অবস্থিত দীর্ঘতম কাঁচের ব্রিজটি মাটি থেকে ১৮০ মিটার উঁচুতে রয়েছে। সেতুটি ২৪ মিলিমিটার দুটি কাঁচের স্তর মিলিয়ে তৈরি হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই কাঁচের স্তর ২৫ গুণ মজবুত সাধারণ জানালার কাঁচ থেকে।
আর্কিটেক্ট হায়িম দোতান জানান, ঝাংজিয়াজি গ্লাস ব্রিজটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, মেঘলা দিনে বা বরফ-বৃষ্টির সময়ে দূর থেকে অদৃশ্য বলে মনে হবে। ব্রিজের দুই দিক স্টিলের বিম দিয়ে ঘেরা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৮০০ জন এই ব্রিজে চলাফেরা করতে পারবে বলে দাবি করেছেন দোতান।
দোতান আরো জানান, এ ব্রিজে রয়েছে শক্তপোক্ত গ্লাসের কাঠামো, এর মধ্যিখানে খাপে খাপে রয়েছে সাসপেন্স কেবল। স্কাইওয়াকে হাঁটা যাঁদের কাছে রোমাঞ্চকর, তাঁদের কাছে সত্যি এটি একটি বড় সারপ্রাইজ।
চীনের বুদ্ধ পাহাড়ের দুটি চূড়ার সংযোগস্থলে রয়েছে এই সেতুটি। ১১ জন ইঞ্জিনিয়ার মিলে রাতারাতি কাঠের ব্রিজকে বদলে কাঁচের সেতু তৈরি করে। পায়ে হাঁটা এই সেতুটি এখন হিরো সেতু নামে পরিচিত চীনের জনসাধারণের কাছে।


















