অবস্থান: সিলেট সার্কিট হাউজ ও ক্বিন ব্রীজ সংলগ্ন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: সিলেট রেলওয়ে স্টেশন অথবা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হতে ১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে গেলেই ঐতিহাসিক আলী আমজাদ ঘড়িটির অবস্থান।
ভাড়া: পর্যটকরা রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে যেতে পারেন। ভাড়া ৩০-৫০/- টাকা।
ঘড়ি ঘরের পরিমাপ নিম্নরূপ:
দৈর্ঘ্য: ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি
প্রস্হ: ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি
নীচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা: ১৩ ফুট
ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা: ৭ ফুট
ঘড়ির উপরের অংশের উচ্চতা: ৬ ফুট
মোট উচ্চতা: ২৬ ফুট
এ অঞ্চলে যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, মানুষ সূর্যের দিকে তাকিয়ে সময় আন্দাজ করতেন, ঠিক সে সময় অর্থাৎ ১৩৩ বছর আগে ১৮৭৪ সালে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার কিন ব্রিজের ডান পাশে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃথিম পাশার নামজাদা জমিদার নবাব আলী আমজাদ খান। লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এ মনোরম স্থাপত্য শৈলীর পরিচায়ক ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজাদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।
মুক্তিযুদ্ধের আগে পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি সচল ছিল। সে সময় এ সুবিশাল ঘড়িটির মেশিন চাবি দিয়ে চালানো হতো। প্রতিদিন ঘড়ির চাবি দেয়ার জন্য তৎকালীন পৌরসভায় একজন কর্মচারী নিযুক্ত ছিল। বিরাট আকারের ডায়াল ও কাঁটা সংযুক্ত সুবিশাল ঘড়িটির ঘণ্টাধ্বনি শহরের বাইরে অনেকদূর থেকেও শোনা যেত। নির্মাণের পর এই আকর্ষণীয় ঘড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন সিলেটের দূর-দূরান্তের গ্রামাঞ্চল থেকে লোকজনের শহরে আগমন ঘটত। সে আমলে মানুষজন শহরের প্রবেশপথে স্থাপিত ঘড়িঘরের সময় দেখে শহরে আসা-যাওয়া ও কাজকর্ম সম্পাদন করতেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতার পর পৌরসভা মেরামতের মাধ্যমে ঘড়িটি সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যে ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল অ্যাডভোকেটের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নবাব আলী আমজাদের ঘড়ি মেরামত করে আবার চালু করা হয়। এ সময় ঘড়িটি চালু করার জন্য ঢাকার একটি কোম্পানির কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ঘড়িটি সচল রাখার ব্যবস্থা নেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরত। কিন্তু দু’চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক নবাব আলী আমজাদের ঘড়ি পর্যটকদের জন্য এক অন্যতম আকর্ষণ। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে এই ঘড়ির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সিলেট বেড়াতে এসে ঘড়িঘর দেখতে কেউ ভুল করেন না। সুরমা নদীর তীরবর্তী ঘড়িঘর ও এর লাগোয়া ঐতিহাসিক কিন ব্রিজ ও চাঁদনীঘাট এলাকাটি সিলেট মহানগরের একটি আকর্ষণীয় স্থান। এর পার্শ্ববর্তী সুরমা নদীর পাড় বাঁধাই করে রেলিং দিয়েও অত্যাধুনিক ফোয়ারা স্থাপন করে এলাকাটি একটি বিনোদনের স্পট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটক ও নগরবাসী এখানে বেড়াতে, অবসর সময় কাটাতে এবং চিত্তবিনোদনের জন্য আসেন।
ঐতিহ্যের এ স্মারক এখন তাই স্তব্ধ। তবে আলোকসজ্জা করে ঝলমল করে তোলা হয়েছে ঘড়ি ঘরটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই মূলত এক আলোকসজ্জা। দীর্ঘ ১ বছর থেকে ঘড়ির কাঁটা সকাল সাড়ে ৮টার কাঁটায় আটকে আছে। কর্তৃপক্ষও এ ঘড়িটির ব্যাপারে কার্যত নির্বিকার। তাই ক্ষুব্ধ আপামর নগরবাসী। এ ঘড়িটি সুদীর্ঘ ইতিহাস কালের সাক্ষী। ব্রিটিশ আমল পরবর্তী ভারত, পাকিস্তান পেরিয়ে এখন স্বাধীন বাংলাদেশ। ঘড়িটি আছে যেই সেই। কিন্তু শুধু বারবার নষ্ট হয়ে যায় ঘড়ির কাঁটা। মেরামতও হয়। যথাযথ দেখভালের কারণে ঘড়িটি সচল থাকে না।
প্রায় ১৪০ বছর যাবৎ উক্তটি ঘড়িটি আলী আমজাদের স্মৃতি বহন করে আসছে। সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশেনের উদ্যোগে ঘড়িটি আধুনিকায়ন ও মেরামত করা হয়। এটি সিলেট জেলার একটি অন্যতম পর্যটন আকষর্ণীয় স্থান। দেশী-বিদেশী অনেক পর্যটক এই ঘড়িটি একনজরে দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়।


















