কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে দরজার হাতলকে বিদায় জানানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সেপ্টেম্বরে সে শহরের নতুন বাড়ি নির্মাণকারীদের নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন তাদের বাড়ির দরজায় নব বা হাতলের পরিবর্তে লিভার বা ফসেট লাগানোর ব্যবস্থা করেন, যে হাতল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই লাগানো হয়ে আসছে! আর এ নির্দেশ কার্যকর করতে হবে আগামী বছরের মার্চ মাসের মাঝে।
তবে ইতোমধ্যেই যেসব বাড়ি কিংবা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মিত হয়ে গিয়েছে সেগুলোর জন্য এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। ‘দ্য ভাঙ্কুভার সান’ এর মতে, “এরকম হলে কোন এক সময় দরজার নব বা হাতল হয়ে যাবে বিলুপ্ত কিছু কিংবা অতীতের কোন বিষয়!” এই পদক্ষেপ প্রথমে শুনলে যে কারো কাছেই কিছুটা অদ্ভুত লাগবে। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পরিচালক ও অধ্যাপক টিম স্টেইনটন বলেন যে ভাঙ্কুভার কর্তৃপক্ষেরএই পদক্ষেপ নেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে দরজা খোলার জন্য সবাই খুব সহজে ব্যবহার করতে পারেন এরকম একটি পদ্ধতি বা যন্ত্র স্থাপন করা।
এরকম অনেক বৃদ্ধ মানুষ কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ রয়েছেন, যাদের পক্ষে দরজার নব ঘুরিয়ে দরজা খোলা খুব কষ্টকর কিংবা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। আর এই ধারণাকে মাথায় রেখেই দরজায় হাতল বা নবের পরিবর্তে লিভার লাগাতে চাচ্ছে ভ্যাঙ্কুভার কর্তৃপক্ষ। মূলত সবার জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই নতুন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। বলা হচ্ছে, দরজার হাতলের সাথে সবাই মানিয়ে নিতে না-ও পারেন। কিন্তু দরজায় লিভার বা ফসেট লাগানো হলে তা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরাও সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষভাবে চিন্তা করা হয়েছে বৃদ্ধদের কথা, যারা বৃদ্ধবয়সে আর্থ্রাইটিস কিংবা গেঁটে বাতের ব্যথায় সমস্যায় আক্রান্ত হন। কবজির মোচড়ে দরজার হাতল বা নব খোলা তাই অনেকের পক্ষেই হয়ে পড়ে বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে যেখানে মানুষের গড় আয়ু অনেক বেশি, সেখানে বৃদ্ধ বয়সের এই সমস্যাগুলো অনেক বড় একটি ইস্যু। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের মতে ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হবে। তাদের জীবনকে আরো সহজ করতে এরকম দরজা তৈরি করতে হবে যা দিয়ে তারা সহজেই যাওয়া-আসা করতে পারেন।
তবে সবাই যে নতুন এই পদক্ষেপ নিয়ে খুশী তা কিন্তু নয়। অনেকেই নতুন এই নিয়ম যেটা কিনা ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এন্টিক ডোর নব কালেকশন অব আমেরিকা’র সভাপতি এলেন জোসলিন বলেন, “আমি জানি না নতুন এই নিয়ম কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে। আমি এটা স্বীকার করি, যেসব ভবনে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন সেখানে সবার প্রবেশের সুবিধার্থে দরজায় লিভার লাগানোর যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু যখন আমি নিজের বাড়ি বানাবো ও আমার বাড়িতে কেউই শারীরিকভাবে অক্ষম থাকবে না [বাড়ি বাড়ানোর মূহুর্তে], সেক্ষেত্রে দরজায় লিভার লাগানোর ব্যপারটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়।“
কিন্তু নতুন আইনের পক্ষের ব্যক্তিরা বলছেন যে কেউ যে কোন সময় শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়তেই পারেন, তাই আগে থেকেই সচেতন হওয়াটা সবার জন্যই ভাল।
















