মিরপুর ও কিশোরগঞ্জের ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ

মিরপুর ও কিশোরগঞ্জের ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং কিশোরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোতে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের ভেতরে আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

টিআইবি জানায়, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গভীর রাতে হওয়া হামলায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটার অভিযোগ সরকারের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের জন্যও বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলা রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যেও সংঘাত চলছে। কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরকে উদাহরণ হিসেবে টেনেছে টিআইবি।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখলবাজি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে কেবল দলীয় বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে চলবে না বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, আইনের আওতায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।