গনিত পরীক্ষা, কিংবা অংক পরীক্ষা। জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেনও হিসেবে আটকে যায় এই কথা শুনলেই। অনেক সময় সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পরে গনিত ভীতিতে। কতো মানুষ যে কতো আক্ষেপ করে বলে কোথা থেকে এলো যে এই অভিশপ্ত অঙ্কশাস্ত্র। সত্যিই তো এলো কেমন করে জেনে নেই মজার কিংবা ভীতিকর এই অঙ্কশাস্ত্রের উৎপত্তি।

অঙ্কশাস্ত্রের উৎপত্তি হল সংখ্যা দিয়ে। একসময় মানুষ সভ্য হতে শুরু করে তার সম্পদের পরিমাপ করতে চায় কিন্তু দেখা যায় সে আমলে তাদের সম্পদ বলতে ছিল শুধু নানারকম পশু যাদেরকে পরিমাপ করার একমাত্র উপায় ছিল সংখ্যাতত্ত্ব। ইংরেজিতে পাটিগণিতকে বলা হয় arithmetic শব্দটি এসেছে arithoms থেকে যার অর্থ সংখ্যা। আবার সংখ্যা শব্দের ইংরেজি হল number যার উৎপত্তি খুঁজলে জানা যাবে যে গুণতি বা গণনা থেকে এই শব্দটি এসেছে।

মিশর ব্যাবিলনিয়ার নিয়ম ছিল এক, দুই, তিন করে খাড়া দাগ কেটে চার পর্যন্ত গোণা আর পাঁচ সংখ্যা বোঝানোর জন্য একটা আড়াআড়ি দাগ কাটা। গ্রিস ব্যবহার করে তার শব্দমালার আলফা, বিটা, গামা, ডেল।টা ইত্যাদি অক্ষর। রোমনি ফিগার লেখা হয় I, V, X, C, D, M দিয়ে আর পূরণবাচক সংখ্যা যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

ধীরে ধীরে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায় আজকের দিনে যাকে বলা হয় অ্যারাবিক নিউমারাল। এর বিশেষত্ব হল এক থেকে নয় পর্যন্ত আলাদা চিহ্ন আর সবশেষে শূন্য। আরবদেশ থেকে এই সংখ্যাতত্ত্ব গিয়ে পৌঁছায় ইউরোপে। সে সময়ে ইউরোপে পুরর্জাগরণ দেখা দিয়েছিল। ইউরোপের দেশগুলির মাঝে তখন পুরোধায় ইতালি আর পন্ডিতজনের একমাত্র স্বীকৃত ভাষা লাতিন তাই ইউরোপে প্রথম অঙ্কে বই ইতালি থেকে লাতিন ভাষায় প্রকাশিত হয় ১৪৭৮ খৃষ্টাব্দে। এভাবেই ধীরে ধীরে অঙ্কের উৎপত্তি হয়েছিল।


















