মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী ১০০ বছর বয়সে কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। পরিবারের বরাতে সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশবাসী সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে।

সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। ১৯৫৫ সালে তিনি সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন। সেখানে মাহাথিরের সঙ্গে পরিচয়ের পর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত সিতি হাসমাহ নারী অধিকার, শিশু সুরক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে কাজ করেছেন। চিকিৎসক হিসেবে কেদাহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করার পর ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়ার প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার নিযুক্ত হন।

১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৯২ সালে ২৫ বছর পর দেশটির ব্যাডমিন্টন দল থমাস কাপ জয় করার সময় তিনি মালয়েশিয়া ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ২০১৬ সালের স্মৃতিকথায় তিনি মাহাথিরকে কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।