হাজার বছর ধরেঃ আবহমান বাংলার ইতিহাস

হাজার বছর ধরেঃ আবহমান বাংলার ইতিহাস
কাহিনী – জহির রায়হান
চিত্রনাট্য – সুচন্দা
সংলাপ – জহির রায়হান
সঙ্গীত পরিচালক – আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
সুরকার – আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
গীতিকার – গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জহির রায়হান
মুক্তির তারিখ – ৮ জুলাই, ২০০৫
ফরম্যাট – ৩৫ মি.মি. রং রঙিন
দৈর্ঘ্য (রান টাইম) – ১৪০ মিনিট
দেশ – বাংলাদেশ
ভাষা – বাংলা

ছবির নাম “হাজার বছর ধরে ” , ছবিটির গল্প নেয়া হয়েছে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হানের ” হাজার বছর ধরে” উপন্যাস থেকে । ছবির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে । যেই গ্রাম যুগের পর যুগ বেঁচে আছে । দিঘির পাড়কে কেন্দ্র করে কয়েক বাড়ি গড়ে উঠেছে আজ বহু বছর ধরে । মুকবুল এই বাড়িগুলোর সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি । তাকে সবাই গণ্য মান্য করে । মুকবুলের বউ আছে তিনজন । তার মধ্যে ছোটজন হল -টুনি । সে তার বউদের খুব কড়া শাসনে রাখে , সবসময় তাদের কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখে । তার বাড়ির পাশে আছে সালেহা , আবুল এবং গনুমোল্লার বাড়ি । তারা সবাই সমীহের চোখে দেখে । আর পাশে আরেক বাড়িতে আছে মন্টূ । যে বাবা-মা হীন । ছবির কাহিনী এক সময় এই মন্টূ এবং টুনিকে নিয়ে আবর্তিত হয় । তাদের মধ্যে এক ভালোবাসার সৃষ্টি হয় । এ দিঘিকে কেন্দ্র করে করেই চলতে থাকে তাদের ভালোবাসা । চলতে থাকে এই কয়েক পরিবারের মানুষের জীবন । কখনও তাদের জীবনে হাসি , আনন্দ আসে আবার কখনও তাদের পারস্পরিক বিভিন্ন সমস্যায় তারা জড়িয়ে পড়ে । হাসি-আনন্দের এক মিশেল হয়ে থাকে তাদের গ্রামীণ জীবন । এ গ্রামীণ জীবনে থাকে গ্রামীণ বিভিন্ন ভুল ধারণা , ভুল বিশ্বাস ; যাকে আঁকড়ে ধরে তারা যুগের পর যুগ তাদের জীবন অতিবাহিত করে । এ রকম বিভিন্ন পারিপাশ্বিক গ্রামীণ বিষয় নিয়েই ছবির গল্প এগোতে থাকে ।

হাজার বছর ধরে জেগে থাকে পৃথিবীর জীবন । সে জীবনে অসংখ্য মানুষ আসে ধরণীর আলো -বাতাসে,আবার অসংখ্য মানুষ চলে যায় নিয়ম করে। জেগে থাকা রাত অনেকগুলো স্বপ্নের কথা বলে ,বলে হারিয়ে যাওয়া অনেকগুলো রাতের গল্প । সেইসব রাত-দিনের গল্প নিয়েই মানুষ এগিয়ে যায় , এগিয়ে যায় । ছুটে চলা এ মাত্রিক জীবনে ভিন্ন নদীর প্রবাহ আসে । কখনও স্রোত কেড়ে নেয় অসংখ্য হাসি আবার কখনও হাসির মিশেলে যেন ঢেউ নামে জীবনের । নদীতে ঢেউ উঠে ,দিঘিতে জলের আওয়াজ ; সব এখানে মন্ত্রমুগ্ধের মত বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকে মানুষের বুকের ভেতর । সেই বুকে কোন খাদ নেই , আছে নিখাদ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা জেগে থাকে যুগের পর যুগ ,হাজার বছর ধরে ।

অসাধারণ মুন্সিয়ানা দিয়ে জহির রায়হান তার এই ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের মধ্যে যেভাবে আবহমান বাংলার স্বকীয়তা ও ধারাবাহিকতাকে বেঁধেছেন, এক কথায় তা অসামান্য। বাংলা সাহিত্যে এমন কালজয়ী উপন্যাস খুব বেশি নয়। সারা প্রিথিবীতেই একই অবস্থা, মহান সাহিত্যের সংখ্যা কখনোই অনেক নয়। স্বাভাবিকভাবেই তাই যে কারো আগ্রহ জন্মাতে পারে, কিভাবে এই মহৎ উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল।

নির্মান ইতিহাস

যেই উপন্যাস প্রচলিত বাংলাদেশের ১৯৬০ সালের জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে। বিখ্যাত অভিনেত্রী সুচন্দার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এই উপন্যাস অবলম্বনে এবং একই শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করবেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশ সরকার-এর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ সমর্থন পেয়েছিলেন। এবং ছবিটি রসাস্বাদন প্রকল্পে কর্তৃপক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার একটি অনুদান পেয়েছিলেন। ‘যদিও ছবি নির্মান ব্যয়ের তুলনায় অনুদানের পরিমান ছিল অপর্যাপ্ত’ সুচন্দা মনে করেন এটা অসম্ভব যে ছোট বাজেটের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য চলচ্চিত্র নির্মান করা, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে ‘ভালো কিছু করতে হলেত একটু বেগ পেতেই হয়’। সুচন্দা ছবির শুটিং স্পট বেছে নেন গাজীপুর মধ্যে হোতাপারা স্পট এ করা হয়েছে।

হাজার বছর ধরে   সুচন্দার পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র সবুজ কোট কালো চশমা, তিনি একটি দীর্ঘ বিরতি পর এই ছবিটি নির্মাণ শুরু করেন। তিনি এই চলচ্চিত্রের জন্য যথাক্রমে প্রায় ছয় বছর অপেক্ষা করেছেন। যখন হোতাপারা থেকে তিনি গাজীপুর গেলেন তখন শুটিং স্পট এবং প্রধান স্থান হিসেবে নির্বাচিত করলেন। মূল উপন্যাসের সাথে দৃশ্যের মিল রাখতে জায়গায় ঋতু পরিবর্তন মানা হয়। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তন স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল।

হাজার বছর ধরে ছবিতে টুনি চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে সুচন্দা ১৪ বছর বয়সী মেয়ে শশীকে নির্বাচিত করেন। সুচন্দার এই ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে অভিনেতা রিয়াজ ছিলেন অন্য রকম, তিনি এই ছবিটির  চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক হিসাবে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র ১০১ টাকা।