১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে পৃথক কৌশল নিচ্ছে সরকার

১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে পৃথক কৌশল নিচ্ছে সরকার

তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং পণ্য ও বাজারে বৈচিত্র্য আনতে ১৮টি প্রধান বাণিজ্যিক গন্তব্যের জন্য আলাদা রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ১৮টি প্রধান বাণিজ্যিক গন্তব্যের জন্য আলাদা কৌশল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান।

‘বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি প্রধান বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। বিদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলো থেকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাণিজ্যের বাধা ও সম্ভাবনাময় পণ্যের তথ্য সংগ্রহ করে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বাজার বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, প্রধান প্রতিযোগী দেশ, সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করা এবং বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মশালায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস এসোসিয়েশন এবং ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।