মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল তেহরান। শনিবার ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসতে পারেন।
সৌদি আরবে ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার কারণে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দাম মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং সেই চাপ কমাতে দেশটি ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে এমন আশঙ্কায় দাম কমেছিল। এএনজেডের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য বাজারের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জ্বালানি রপ্তানি বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদকদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ মাসে রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে ঠেকেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার ক্ষয়ক্ষতির পর সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কমিয়ে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দর দিয়ে সরবরাহ বাড়িয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দেশটির তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে।

